Blog

বাংলাদেশে ব্যবহৃত (Used) ল্যাপটপ কেনার আগে যে ১০টি বিষয় অবশ্যই দেখবেন?

বাংলাদেশে প্রযুক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ল্যাপটপ এখন বিলাসিতা নয়, বরং ক্যারিয়ার গড়ার প্রধান হাতিয়ার। তবে বর্তমান বাজারে নতুন ল্যাপটপের আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেকেরই প্রথম পছন্দ এখন ব্যব্যহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড (Used) ল্যাপটপ

ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনা যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি সঠিক নিয়ম না জানলে এটি হতে পারে চরম ভোগান্তির কারণ। তাই ল্যাপটপ কেনার আগে লস এড়াতে এবং সেরা ডিলটি পেতে আপনাকে যে ১০টি বিষয় অবশ্যই যাচাই করতে হবে, তার একটি প্র্যাকটিক্যাল গাইড নিচে দেওয়া হলো:

১. বডি এবং ফিজিক্যাল কন্ডিশন যাচাই

প্রথমেই ল্যাপটপটির চারপাশ ভালোভাবে দেখুন। বডিতে কোনো ফাটল বা বড় ধরনের ডেন্ট আছে কিনা তা খেয়াল করুন। বিশেষ করে ল্যাপটপের হিঞ্জ (Hinge) বা কব্জিটি ঠিকঠাক আছে কিনা দেখুন। বারবার ল্যাপটপটি খুলে এবং বন্ধ করে পরীক্ষা করুন কোনো শব্দ হয় কিনা।

২. স্ক্রিন বা ডিসপ্লে পরীক্ষা

ডিসপ্লে অন করে ভালো করে দেখুন কোনো ডেড পিক্সেল বা সাদা স্পট আছে কিনা। এটি পরীক্ষার সহজ উপায় হলো একটি সাদা এবং একটি কালো ওয়ালপেপার সেট করা। যদি স্ক্রিনে কোনো রঙের অসামঞ্জস্যতা থাকে, তবে সেটি না কেনাই ভালো।

৩. কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড

একটি নোটপ্যাড ফাইল ওপেন করে কিবোর্ডের প্রতিটি বাটন চেপে পরীক্ষা করুন। অনেক সময় কিছু বাটন জ্যাম থাকে বা কাজ করে না। পাশাপাশি ট্র্যাকপ্যাডের জেস্টার এবং ক্লিকের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে নিন।

৪. ব্যাটারি হেলথ ও চার্জার

ব্যবহৃত ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ব্যাটারিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তত ২০-৩০ মিনিট ল্যাপটপটি চালিয়ে দেখুন কত দ্রুত চার্জ কমছে। অবশ্যই সাথে দেওয়া চার্জারটি অরিজিনাল কি না তা যাচাই করবেন।

৫. পোর্টস এবং কানেক্টিভিটি

ল্যাপটপে থাকা প্রতিটি ইউএসবি পোর্ট, এইচডিএমআই (HDMI), এবং হেডফোন জ্যাক পরীক্ষা করুন। ওয়াইফাই (Wi-Fi) এবং ব্লুটুথ সংযোগ ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত হয়ে নিন।

৬. প্রসেসর ও র‍্যাম (স্পেসিফিকেশন)

অনেকেই বিক্রেতার কথায় বিশ্বাস করে ঠকে যান। ল্যাপটপের মাই কম্পিউটার থেকে প্রপার্টিজে গিয়ে দেখে নিন প্রসেসর জেনারেশন এবং র‍্যাম কতটুকু।

৭. এসএসডি (SSD) যাচাই

বর্তমানের ফ্রিল্যান্সিং বা অফিস কাজের জন্য এসএসডি থাকা বাধ্যতামূলক। কেনার আগে নিশ্চিত হোন এতে এসএসডি আছে কিনা, কারণ এটি ল্যাপটপের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৮. ওয়েবক্যাম ও স্পিকার

অনলাইন ক্লাস বা মিটিংয়ের জন্য ক্যামেরা এবং স্পিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবে একটি ভিডিও চালিয়ে সাউন্ড কোয়ালিটি এবং ক্যামেরা অ্যাপ দিয়ে ভিডিও কোয়ালিটি দেখে নিন।

৯. হিটিং ইস্যু ও ফ্যান

ভারী কোনো সফটওয়্যার বা কয়েকটা ট্যাব একসাথে ব্রাউজারে ওপেন করুন। দেখুন ল্যাপটপটি অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কিনা বা ফ্যান থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে কিনা।

১০. বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতা ও ওয়ারেন্টি

ব্যবহৃত ল্যাপটপ ব্যক্তিগত কোনো বিক্রেতার চেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সেখান থেকে আপনি বিক্রয়োত্তর সেবা বা ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা পাবেন।

ডিভাইস মামা (Device Mama): ব্যবহৃত ল্যাপটপ বাজারে আস্থার নতুন মাইলফলক

বাংলাদেশের ব্যবহৃত ল্যাপটপের বাজারে স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের অভাব দীর্ঘদিনের। এই শূন্যতা পূরণে এবং গ্রাহকদের একটি নিরাপদ কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে ‘ডিভাইস মামা’ (Device Mama) এক অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং বাজেট-সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য ডিভাইস মামা এখন দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম।

কেন ডিভাইস মামা অন্যদের থেকে আলাদা?

  • অবিশ্বাস্য রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি: ডিভাইস মামা তাদের প্রতিটি ল্যাপটপে দিচ্ছে ৫০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। অর্থাৎ কেনার পর কোনো সমস্যা হলে বা পছন্দ না হলে আপনি সেটি পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা সচরাচর ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
  • দীর্ঘমেয়াদী সার্ভিস ওয়ারেন্টি: গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত রাখতে ডিভাইস মামা দিচ্ছে ৫ বছরের ফ্রি সার্ভিস ওয়ারেন্টি। ল্যাপটপ কেনার পরও দীর্ঘ সময় টেকনিক্যাল সাপোর্টের এই নিশ্চয়তা গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে।
  • সরাসরি দেখে কেনার সুবিধা (৩টি ফিজিক্যাল সেন্টার): অনলাইন অর্ডারের পাশাপাশি গ্রাহকরা সরাসরি এসে ল্যাপটপ দেখে ও পরীক্ষা করে কিনতে পারেন। বর্তমানে ডিভাইস মামার ৩টি সুসজ্জিত ডিল সেন্টার রয়েছে: ১. গুলশান-তেজগাঁও লিঙ্ক রোড(নাভানা ওসমান @ লিঙ্ক) ২. ধানমন্ডি (সাত মসজিদ রোড) ৩. মিরপুর (পল্লবী)
  • সাশ্রয়ী ও গুণগত মান: নতুন ল্যাপটপের প্রায় অর্ধেক দামে প্রিমিয়াম বিজনেস ক্লাস ল্যাপটপ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ডিভাইস মামা তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার পথে বড় বাধা দূর করেছে।

উপসংহার

একটি ভুল কেনাকাটা আপনার কষ্টার্জিত টাকার অপচয় ঘটাতে পারে। তাই ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার সময় তাড়াহুড়ো না করে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করুন। আর যদি ঝামেলামুক্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টিসহ সেরা মানের ল্যাপটপ পেতে চান, তবে ডিভাইস মামাহতে পারে আপনার শ্রেষ্ঠ গন্তব্য।

আপনার ফ্রিল্যান্সিং বা পড়াশোনার জার্নি শুরু হোক সঠিক ডিভাইসের সাথে। আজই ভিজিট করুন আপনার নিকটস্থ ডিভাইস মামার ডিল সেন্টার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *